৯ হাসপাতালে এক্স-রে বন্ধ

বিন্দু তালুকদার
প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মেশিন থাকার পরও জনবল সংকটের কারণে জেলার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) এক্সরে করা বন্ধ হয়ে আছে। এতে গ্রামের দরিদ্র ও সাধারণ জনগোষ্ঠী কাঙ্খিত সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কবে জনবল সংকট দূর হবে ও রোগীদের এক্সরে করা সম্ভব হবে তা জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি জেলা সদর হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটিও নষ্ট হয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতালে হাড় ভাঙ্গাসহ নান কারণে রোগীদের এক্সরে করার জন্য রেডিওগ্রাফারের একটি করে পদ রয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে এক্সরে করার কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও রয়েছে সেখানে। তবে দীর্ঘ দিন ধরে ওই পদে লোক না থাকায় কোন এক্সরে করা সম্ভব হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া জেলার ছাতকের কৈতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) দীর্ঘদিন ধরে এক্সরে মেশিন বন্ধ রয়েছে। এসব হাসপাতালে রেডিওগ্রাফার না থাকায় গত এক যুগেরও বেশী সময় ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে এক্সরে কক্ষ। গ্রামের দরিদ্র লোকজন এক্সরে করার জন্য এসব হাসপাতালে গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণ তাদেরকে জেলা সদর হাসপাতাল বা অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেন। অথচ বাড়ির কাছের উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে মূল্যবান  এক্সরে মেশিনের কক্ষ তালাবন্ধ অবস্থায় ভেতরে নষ্ট হচ্ছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পুরান মুক্তিখলা গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন ও ধনপুর গ্রামের বাসিন্দা নাছির উদ্দিন জানান, বিশ্বম্ভরপুর হাসপাতালে কোন সময়ই এক্সরে করা সম্ভব হয় না। কোন রোগীর এক্সরে করার প্রয়োজন হলে সুনামগঞ্জ শহরে বা অন্য কোথাও করতে হয়। হাসপাতালে এক্সরে মেশিন থাকলে তা এলাকার লোকজনের কোন কাছে আসছে না।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ বলেন,‘ আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে মেশিন রয়েছে কিন্তু অপারেটর না থাকায় আমরা এক্সরে করতে পারছি না। লোক না থাকায় এটা অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এসব বিষয় আমাদের কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক বলেন,‘ বছরের পর পর ধরে আমাদের উপজেলা হাসপাতালের এক্সরে মেশিন বন্ধ আছে। এই এলাকার রোগীরা এক্সরে করার জন্য সুনামগঞ্জ, ছাতক ও সিলেটে যাচ্ছেন। এতে করে রোগীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, শ্রম, অর্থ এবং সময়েরও অপচয় হচ্ছে। আমাদের দাবি যতদ্রুত সম্ভব শূন্য পদে লোক নিয়োগ দেয়া হোক। এক্সরে মেশিন চালু করে দরিদ্রসহ সকল রোগীদের সেবা দেয়া হোক। ’
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ আমাদের সদর হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট গত জুন মাসে অবসরে চলে গেছেন। এর পরপরই আমরা কর্তৃপক্ষকে এই পদে লোক নিয়োগ দেয়ার জন্য বলেছি। মেশিন নষ্টের কারণে গত মাসখানেক ধরে এক্সরে করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্সরে মেশিন ঠিক করার জন্য আজ লোক আসবে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত তা মেরামত করে আবারো চালু করা হবে।’
সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন,‘জনবল সংকটের কারণে সুনামগঞ্জ সদর ও ছাতক হাসপাতাল ছাড়া জেলার কোন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেডিওগ্রাফারের পদ শূন্য রয়েছে। এক্সরে করার জন্য মেশিন প্রতিটি হাসপাতালে রয়েছে কিন্তু চালক ও রিপোর্ট করার লোক না থাকায় এক্সরে করা বন্ধ রয়েছে। মেশিন নষ্ট হওয়ার কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের এক্সরে করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি খুব শিগররই তা মেরামত করা হবে। লোকবল সংকটের কারণে এক্সরে মেশিন বন্ধ থাকার বিষয়টি আমরা প্রতিমাসেই কর্তৃপক্ষকে অবগত করছি। জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভা ও বিভাগীয় কমিশনারকে এই বিষয়টি বলেছি। কিন্তু লোকবল সংকট নিরসনে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।’